মোছাঃ নাসিমা বেগম, দুই পুত্র সন্তান, এক কন্যার মাতা এবং একজন পঞ্চাশ উর্দ্ধ মহিলা যিনি সংসার জীবনে যুদ্ধোত্তর জীবন সায়াহ্নের পথে। পুত্রবধুর সেবা শুশ্রুষার মাধ্যমে দৈনন্দিন ব্লাড পেশার এর ঔষধ সেবন করতে হয়।কিন্তু এত ঔষধ তার আর ভাল লাগছে না, ঠিক ঐ কারনে নিজের মনের ইচ্ছায় কয়েক দিন ঔষধ থেকে বিতারিত থাকেন এবং শিকার হন মরণঘাতী ব্যধি স্ট্রোক এর । গত ২২/০২/১৪ ইং তারিখে একটি ব্রেন স্ট্রোক হয়ে যায় তার রংপুর মেডিক্যালে নিউরোমেডিসিনের শরানাপন্ন হন এবং অনেক ডায়াগ্নোসিসের পর বলা হয় মারাত্নকভাবে ব্রেনের কিছু সেল নষ্ট হয়ে গিয়েছে, অপারেশন এর প্রয়োজন নেই, শুধু ঔষধ খেতে হবে, এবং ফিজিওথেরাপীর চিকিৎসার শরণাপন্ন হতে হবে । প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, গাইবান্ধার ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার কথা তিনি জানতে পারেন এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে এবং সেখানে যান, সেখানে ভর্তি হওয়ার পর ফিজিওথেরাপী সেবা চলতে থাকে। গতানুগতিক ভাবে তার স্বাস্থের উন্নতি হতে থাকে এবং দীর্ঘ ৫-৬ মাসের মাথায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হাটতে পারেন, কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় অন্য জায়গায় । একদিন কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপীর) শরণাপন্ন হয়ে তিনি জানান তার প্রস্রাব পায়খানার বেগ পেলে তা ধরে বা আটকে রাখতে পারেন না । বাথরুমে যেতে যেতেই কাপড় নষ্ট হয়ে যায় এখন কি উপায় ঔষধ খেয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। কনসালট্যান্টের পরামর্শে জানা গেল এ সমস্যার জন্য গুচ্ছ ফিজিওথেরাপী চিকিৎসা রয়েছে আর তা হল এই এই
মোছাঃ নাসিমা বেগম যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তা হলো ইউরিনারী ইনকনটিন্যান্স (টগ্রহধ ওহপড়হঃরহবহপব) । আসুন এই সমস্যার টুকিটাকি জেনে নেই ।

আমাদের শরীরের নীচের কিছু মাংসের দুর্বলতার কারণে কাশি, হাঁছি বা হঠাৎ কোন কাজ করতে গিয়ে প্রস্রাব চলে আসলে বা প্রস্রাব আটকে রাখতে না পারার সমস্যাই হলো ইউরিনারী ইনকনটিন্যান্স ।
প্রস্রাব আটকে রাখার জন্য ইউরিনারী ব্লাডার এবং ইউরেথ্রার যে মাংস গুলো দায়ী সে গুলোর দুর্বলতাই এর কারন, তবে যে যে ফ্যাক্টর এর জন্য দায়ী তা হলঃ-
- স্বাভাবিক নিয়মে বাচ্চা প্রসব/নরমাল ডেলিভারী
- ওজন বেড়ে যাওয়া/স্থুলতা ।
- বারবার হঠাৎ কোন ওজন উঠানো ।
- মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া ।
- স্ট্রোক ।
- প্রজনন তন্ত্রের কোন সার্জারী ।

এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য রয়েছে কেজেল এক্সারসাইজ । ১৯৫২ সালে আর্নল্ড কেজেল এই ফিজিওথেরাপী টেকনিকের ব্যাপারে আলোকপাত করেন। কেজেল এক্সারসাইজ এর অপর নাম পেলভিক ফ্লোর মাসেল স্ট্রেনদেনিং এক্সারসাইজ । এর পাশাপাশি এ সমস্যা সমাধানের জন্য রয়েছে বিশেষ পদ্ধতিতে স্টিমুলেশন ।
এরপর নাসিমা বেগমের সমস্যা অনেকটি ঠিক হয়ে যায় ।

স্বাভাবিক মানুষও কেজেল এক্সারসাইজ করতে পারেন এতে ভবিষ্যতে এধরনের সমস্যায় পরবেন না এবং যে কোন ব্যাক্তির সেক্সুয়াল ফাংশনও ঠিক থাকবে যা দাম্পত্য জীবনের জন্য পজেটিভ ।
