Stroke/প্যারালাইসিস

স্ট্রোক পরবর্তী ফিজিওথেরাপী

স্ট্রোক পরবর্তী একজন রোগীর বিছানা থেকে দৌড়ানো পর্যন্ত শেখানো একটি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এ রোগীদের পুনর্বাসন একটি প্রগ্রেসিভ পদ্ধতি বা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা একটি চিকিৎসা ব্যাবস্থা। সব ধরনের ফিজিওথেরাপী বা থেরাপিউটিক এক্কসারসাইজ একসাথে প্রয়োগ করা যাবে না । আমরা পুনর্বাসন বা চিকিতসা পদ্ধতিগুলোকে কিছু অংশে বিভক্ত করলাম।

পজিশনিংঃ 

একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগিকে বিছানায় কিভাবে শুয়াবেন বা বিছানায় কিভাবে তার অবস্থান হবে এগুলো কারেকশন করাটাই হচ্ছে রোগির পজিশনিং।স্ট্রোক করা ব্যাক্তি যে পাশে প্যারালাইসিস হয়েছে সেপাশে শুয়ে থাকতে চাবে না , অপর পাশে শুইতে বেশি চাবে। তবে ওনাকে মাঝে মাঝে অন্য পাশেও কিছু সময় থাকতে হবে। হাত পায়ের যে অংশগুলোতে বালিশ ব্যবহার করলে ভালো লাগে সেখানে বালিশ দিতে হবে।যেমন বাম পাশে আক্রান্ত ব্যাক্তি ডান পাশে শুইলে বাম কনুই এবং বগলের নীচে ছোট বালিশ ব্যবহার করবে। দু পায়ের মাঝখানের কুশন বা অন্য কিছু ব্যবহার করবে। কোন রোগীকে এক পজিশনে বেশিক্ষন রাখা যাবে না।যে সব রোগী একেবারেই নড়তে পারে না তাদের আধা ঘণ্টা পর পরইও পজিশন পরিবর্তন করতে হবে।এক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপী ডাক্তার রোগির এটেন্ডেন্টস এর এসব নির্দেশনা ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিবেন।কিছুসময় চিত হয়ে থাকবে আবার কিছু সময় বাম পাশে শুবে আবার অনেক সময় হাফ সিটিং পদ্ধতিতে বিছানায় বসে থাকবেন।রোগি যদি নড়াচড়া করতে পারে তবে রোগীকেই এসব ভালোভাবে বলে দিতে হবে।রোগীকে কখনোই আক্রান্ত পাশের শোল্ডার বা হাত ধরে টেনে এদি্ক ওদিক নেয়া যাবে না । প্যারালাইসিস রোগির আক্তান্ত দিকের শোন্ডার এর মাংস পেশির দুর্বলতা থাকে এজন্য এভাবে টান দিলে শোল্ডার ডিসলোকেশন হয়ের যেতে পারে। ব্যাক্তির পুরো বুকের নীচে হাত দিয়ে আস্তে আস্তে এদিক ওদিক করতে হবে। রোগিকে মাঝে মাঝে অন্য রুমে নিতে হবে, সবসময় এক রুমে রাখা যাবে না। এতে রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। অন্য রুমে চেয়ারে বসে থাকলে বা বিছানায় থাকলে সেখানেও কিছু সময় পর পর পজিশন পরিবর্তন করতে হবে। স্ট্রোক রোগীদের জন্য কিছু স্পেশাল বেড কিনতে পাওয়া যায় এগুলোকে এয়ার ম্যাট্রেস বেড বলে। ঠিক মত পজিশনিং না করালে যারা একবারেই নড়তে পারে না তাদের বেড সোড় হবার পসিবিলিটি থাকে যা খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।বেড সোড় এর প্রিভেনশন এর জন্য মাঝে মাঝে রোগির শরীরের প্রোমিনেন্ট অংশগুলো চেক করতে হবে যেন কোন চামড়া ছুলে গেছে কিনা। এটা বেড সোড় হবার প্রথম লক্ষণ। পায়ের মেলিউলাস বা গোড়ালীর উচু অংশ, কোমড়ের পিছনের দিকে দুই দাগের মাঝে,শোল্ডারের বাইরের দিকের উচু অংশ , সাধারনত যে অংশ গুলো বিছানার সাথে চেপে লেগে থাকে সেখানেই বেশি ঘা হতে দেখা যায়।

মবিলিটি

স্ট্রোক রোগীকে নিউরোলজিস্ট ঔষধ প্রয়োগ এর কিছু দিন পর যখন তার রিহ্যাবিলিটেশন বা ফিজিওথেরাপী শুর হয় তখন পজিশনিং এর পর প্রথম লক্ষ্য করতে হবে তার সব জয়েন্ট এর মবিলিটি বা মবিলিটির রেঞ্জ। সকল জয়েন্টের স্বাভাবিক রেঞ্জ ঠিক রাখতে ফিজিওথেরাপিস্ট তাকে প্যাসিভ এক্সার সাইজ বা প্যাসিভ মুভমেন্ট করাতে পারেন। সব জয়েন্ট বলতে আক্ত্রান্ত পাশের প্রত্যেক জয়েন্ট যেমন আঙ্গুলের জোড়া থেকে শুরু করে পায়ের আঙ্গুলের জয়েন্ট পর্যন্ত সব খানেই পরোক্ষ নাড়াচাড়া করতে হবে। এরপর রোগির যদি কিছুটা মুভমেন্ট থাকে তবে সেখানে এক্টিভ এসিস্টেড এক্সারসাইজ করতে হবে। যেমন রোগিকে বলতে হবে আপনি হতা ভাজ করেন , আর ফিজিওথেয়াপিস্ট কিছুটা সহায়তা করবেন। ফিজিওথেয়াপিস্ট এর কিছুটা সহায়তা নিয়ে যেকোন মুভমেন্ট করাই হচ্ছে এক্টিভ এসিস্টেড এক্সারসাইজ। এসময় রোগির সাথে ফিজিওথেরাপিস্ট কথাও বলতে হবে। রোগীকে নিজ চোখে মুভমেন্টটি দেখতেও হবে। এই সকল প্রক্রিয়া ই হছে নিউরোডাইনামিক এক্সারসাইজ।রোগীর ইন্দ্রিয় গুলো সজাগ করে তোলাই হছে নিউরোডাইনামিক ফিজিওথেরাপী’র কাজ।ঠিক এই প্রক্রিয়াগুলো সব জয়েন্ট এর মুভমেন্টএ প্রয়োগ করতে হবে। যেকোন নার্ভের ফাংশন কে সঠিক ভাবে কোন থেরাপিউটিক এক্সারসাইজের মাধ্যমে পুনরায় আগের অবস্থায় নিয়ে আসাই নিউরো ফিজিওথেরাপী।নিউরো ফিজিওথেরপী তে রোগির ইন্দ্রিয় গুলোও কাজে লাগাতে হবে। রোগির ইন্দ্রিয় জাগাতে হলে ফিজিওথেয়াপিস্ট কেও তার দু একটি ইন্দ্রিয় এক্টিভ রাখতে হবে। যেমন রোগীর মুভমেন্ট করার সময় ফিজিওথেরাপী ডাক্তার কে কথাও বলতে হবে।রোগীর সাহায্যও প্রয়োজন হবে।

কিছু নিউরোডাইনামিক মবিলিটি হচ্ছেঃ

আংগুলের জোড়াগুলো নাড়াচাড়া,( ফিঙ্গার মুভমেন্ট) কবজি নাড়া,(রিস্ট ফ্লেকশন এক্সটেনশন,সারকাম্ফারেন্স) কনুই ভাজ করা,(এল্বো এক্সটেনশন,ফ্লেকশন) , শোল্ডার মুভমেন্ট (ফ্লেকশন , এক্সটেনশন, রোটেশন ইত্যাদি)।এভাবে লোয়ার লিম্ব বা পায়ের দিকেও করতে হবে।

সবকিছুতেই লক্ষ্য হচ্ছে নার্ভ কে জাগায় তোলা, পেশির শক্তি বৃদ্ধি করা নয়। পেশিকে স্ট্রেন্দেনিং করা অন্য ধাপের কাজ।

ওরোফেসিয়াল কিছু ফাংশন লস বা সমস্যা হতে পারে যেমন মুখ বাকা হতে পারে , কথার জড়তা থাকতে পারে, চোখের প্রব্লেম হতে পারে । এক্ষেত্রেও ফেসিয়াল নার্ভ কে স্টিমুলেট করতে ফেসিয়াল কিছু নিউরোডাইনামিক এক্সসারসাইজ আছে সেগুলো করাতে হবে। যেমন ফেসিয়াল মাসাজ, নানা ধরনের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, ফু দেয়া, বাশি ফুকানো,বেলুন ফুলানো, চোখের কিছু এক্টিভ ফাংশন ইত্যাদি।মুখের এক্সারসাইজ সাধারনত বসে করাতে পারলেই ভালো। এই ফাংশন এর মাধ্যমে স্পীস এর সমস্যা থাকলে সেটিও ঠিক হয়ে যাবে। স্পিস থেরাপির কিছু এক্সারসাইজ হচ্ছেঃ

বিভিন্ন ধরনের কথা বলা বা প্রনান্সিয়েশন।সহজ শব্দ থেকে আস্তে আস্তে জটিল শব্দ উচ্চারন করা্‌ , ভাউয়াল লেটার উচ্চারন করা, জিহবা নাড়া চাড়া করা, শিষ দেয়া, পানি মুখ দিয়ে বাইরে জোড়ে ছুড়ে ফেলে দেয়া ইত্যাদি।

স্ট্রেন্দেনিং বা পেশীর শক্তি বৃদ্ধি

এভাবে মবিলিটি বা নিউরোডাইনামিক এক্সসারসাইজ করতে করতে রোগির যেসব অংশে শক্তি একটু আছে সেইসব অংশে আস্তে আস্তে পেশি শক্তি বৃদ্ধি করতে মাসল স্ট্রেন্দিনিং এক্সারসাইজ করতে হবে। মাসল বা পেশীর শক্তি বাড়াতে রেজিস্টেন্স এক্সসারসাইজ বা মাসল পাওয়ার গেইনিং এক্সসারসাইজ করতে হবে। অর্থ্যাত রোগি কনুই ভাজ করতেছে এসময় ফিজিওথেরাপিস্ট বিপরীত দিকে টেনে ধরবে আবার আস্তে আস্তে ছেড়ে দিবে।এধরনের এক্সসারসাইজকে রেজিস্টেন্স এক্সসারসাইজ বলে।এভাবে সব জয়েন্টে  এপ্লাই করতে হবে। পায়ের তলায় হাত দিয় পা একটু উচু করে রোগীকে বলতে হবে আস্তে আস্তে আমার হাতে ধাক্কা দেন, এভাবে কোমড় বা হিপ জয়েন্ট এর মাংসের শক্তি বাড়ানো যায়। কোমড়ের ব্রিজিং এক্সসারসাইজ করা যায় ইত্যাদি। রোগী বসতে পারলে পায়ের কোয়াড্রিসেপ্স স্ট্রেন্দেনিং করানো যায়। 

হিপ ফ্লেকশন এক্সটেনশন উইথ রেজিস্টেন্স

হিপ রোটেশন উইথ রেজিস্টেন্স

এস এল আর উইথ রেজিস্টেন্স

এংকেল মুভমেন্ট উইথ রেজিস্টেন্স

কোয়াড্রিসেপ্স স্ট্রেন্দেনিং

হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেন্দেনিং

ইত্যাদি

আপার লিম্ব বা হাতের ক্ষেত্রে শক্তি বাড়ানোর কিছু থেরাপী হচ্ছে

আঙ্গুলের ক্ষেত্রে মেডিসিন বল ব্যবহার করা যায়। এই বল চাপ দেয়ার মাধ্যমে হাত বা হ্যান্ড এর শক্তি বৃদ্ধি করা যায়

সকল মুভমেন্ট এ রেজিস্টান্স প্রয়োগ করে সব মাংশের ই শক্তি বাড়ানো যায়।

তবে আক্ত্রান্ত পাশের শোল্ডার জয়েন্ট একটু সাবধানের মবিলাইজ করতে হবে কারন  এখানে সাবলাকজেশন বা হাত ঝুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। এ সমস্যায় হাটার সময় এলবো ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।

ব্যালান্সিং

কিছুটা শক্তি পাওয়ার পর আপনার রোগী বা আপনি হাটতে চাবেন বা বসতে চাবেন,এক্ষত্রে রোগীকে আস্তে করে পিঠে এবং পা ধরে উঠিয়ে বিছানার সাইডে পা ঝুলে বসাতে হবে। দেখবেন রোগি বসছে কিন্তু আক্রান্ত পাশে হেলে পড়ে যাচ্ছে, এখানে রোগিকে কিছুটা ব্যালান্সিং শিখাতে হবে। অনেক সময় বিপরীত পাশে একটু জোড়ে হেলে ধরে থাকতে হবে।এটি এক ধরনের স্ট্রেচিং টেকনিক,রোগীকে বসানোর সময় ব্যালান্সিং ভালোভাবে বুঝাতে হবে।কিছুদিন পর রোগীকে বসা থেকে দাড় করাতে হবে বিছানার পাশেই। এই দাড় করানোই মাঝে মাঝে চালাতে হবে।এরপর রোগি দেখবেন হাটার ইচ্ছা পোষণ করবে এবং রোগীর বিপরীত পাশে ফিজিওথেরপিস্ট দাঁড়াবে এবং তার হাতে হাত রেখে , আরেক হাত কোমড় এ রেখে আস্তে আস্তে হাটাবে এবং ব্যালান্সিং করবে।এভাবে কিছুদিন চলতে থাকবে এবং মনে রাখতে হবে সবকিছুই স্লোভাবে চলবে। প্রথমে ধবে হাটবে , পড়ে কিছু একটা সাপোর্ট দিয়ে হাটাতে হবে।রোগীকে এসময় কিছু ব্যালান্সিং ফিজিওথেরাপী করাতে হবে যেমন সাইড পজিশনিং, সাইড লিনিং বা হেলে থাকা, ওয়েট ট্রান্সফার,মাইল্ড স্কোটিং,হাত উপরে উঠানো নামানো,রোগীকে আস্তে করে ধাক্কা দিয়ে দেখা,১৮০ ডিগ্রী এবং পর্যায়ক্রমে ৩৬০ ডিগ্রীতে রোগীকে ঘুরতে বলা, ইত্যাদি।দিনে দিনে ব্যালান্সিং যখন রাড়বে তখন এই ফাংশন গুলোই একটু দ্রুত এবং প্রেশার দিয়ে করাতে হবে।ব্যালান্সিং এর সাথে রোগীর গেইট ট্রেনিং ও করাতে হবে। এরজন্য প্যারালাল বার বেশ ভালো কাজ করবে সাথে সামনে আয়না বা মিরর থাকতে হবে। ছোট সিড়ি কিনতে পাওয়া যায়,সেখানে স্টেয়ারিং করাতে হবে।পড়ে বড় বা নরমাল সিড়ি দিয়ে হাটবে। হাটা ক্লিয়ার করার জন্য গেইটের বিভিন্ন প্যাটার্ন আছে সেগুলো প্রাক্টিস করাতে হবে যেমন ব্যাকওয়ার্ড গেইট বা পিছনে হাটা, সাইডে হাটা, দাগ দিয়ে তারপর হাটা বা টার্গেট গেইট ,লং ডিস্ট্যান্স গেইট ইত্যাদি। অনেক সময় রোগীকে দু একজনের সহায়তায়  বাইরে মাঠে নিতে হবে।মাঠে নিলে হবে কি পড়ে গেলেও ক্ষতি কম হবে।সপ্তাহে এক দিন মাঠে নেয়া যেতে পারে।যদি সম্ভব হয় সাপোর্ট সিস্টেম সাইকেল বা ট্রেড মিল ব্যবহার করা যেতে পারে।প্রগেসিভ ব্যালন্সিং এর সিস্টেম ফলো করলে আস্তে আস্তে সাপোর্ট ছেড়ে দিতে হবে। শেষের দিকে রোগী সব নিজে নিজে করবে ফিজিওথেরাপিস্ট শুধু ফলো করবে। এদিকে বেডের সব এক্সারসাইজ গুলো কিন্তু চলতেই থাকবে। যদি রোগীর গতানুগতিক প্রগ্রেস বা উন্নতি না হয় তখন কি করবেন। কিছু ইলেক্ট্রোএসিস্টিভ ডিভাইস বা সাপোর্ট পাওয়া যায় সেগুলোর সহায়তা নেয়া যায়।যেমন আপার সিলিং সাপোর্ট আছে যা দিয়ে রোগীর কোমড় এবং পিঠ বেধে নীচে ট্রেড মিলের সহায়তায় আস্তে আস্তে হাটা যায়। তবে এটি পুরোটাই প্যাসিভ থাকে,রোগি হাটার একটা নরমাল অনুভূতি বা ফিলিংস পায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি ভালো কাজ দেয়।আবার অনেক সময় বড় ওয়াকার পাওয়া যায়,পুরো বডি একটা সাপোর্ট দিয়ে রাখে আর রোগী আস্তে আস্তে কারো সাহায্য ছাড়াই হাটতে পারে।

momena nazrul physiotherapy

স্পীস থেরাপী

রোগীর মুখ যদি একদিকে বেকে যায় তবে তার ফেসিয়াল পালসি কন্ডিশন আছে। মুখ বাকা থাকলে ওরোফেসিয়াল ফিজিওথেরাপী চালাতে হবে।মুখ বিপরীত পাশে যাতে ঠিক হয় এজন্য বিপরীত পাশে স্ট্রেচিং থেরাপী দিতে হবে,বিভিন্সস ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন যেমন মুখ ভেংচি কাটা,মুখের ঠোট ছোখা করা,মুক ফোলা,গালে বাতাস ভরে রাখা,চোখ জোড়ে বন্ধ বা খোলা,চোখের ভুরু উপরে তোলা,কপালের ভাজ ফেলা প্রাক্টিস করা,জিহবা নাড়াচাড়া করা চামুক দিয়ে,ফু দেয়া, শিষ দেয়া, বিভিন্ন কথা বা শব্দ বলা,বাশি বেলুন ফোলা,সকালে কুসুম পানি মুখে নিয়ে জোড়ে ছিটিয়ে দেয়া,জটিল জটিল শব্দ উচ্চারণ করা যেমন কন্সটিটিউশন , ইন্সটিটিউশন ইত্যাদি ।ইলেক্ট্রফিজিওথেরাপী হিসেবে ফেসিয়াল নার্ভে নার্ভ স্টিমুলেশন(টেনস),  আই আর আর (IRR) দেয়া যেতে পারে। ওরোফেসিয়াল মাসাজ করা যেতে পারে সাথে একটু পাউডার ব্যবহার করা যায়। প্রথমে রোগীকে এগুলো করে দিয়ে শিখিয়ে দিলে কিছে ফাংশন রোগী নিজে আয়নার সামনে করবে তবে ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে থাকবেন।অনেকের মুখ বাকা থাকে না কিন্তু কথা অস্পষ্ট থাকে সেক্ষেত্রেও স্পীস থেরাপী লাগবে তবে একটু কম বেশি হবে।পাশা পাশি কিন্তু পূর্বের সব থেরাপী চলবে। ব্রেদিং এক্সারসাইজের জন্য কিছু পজিশন আছে সেই পজিশন মেইন্টেইন করে ব্রেদিং এক্সারসাইজ চালিয়ে যেতে হবে।

ইলেক্ট্রথেরাপী

ফিজিওথেরাপী উইথ ইলেক্ট্রিক্যাল ইকুইপমেন্ট বা রিহ্যাবিলিটেশন উইথ ইলেক্ট্রিসিটি কেই ইলেক্ট্রথেরাপি বলে। ইলেক্ট্রিক্যাল ফিজিও ইকুইপমেন্টের মধ্যে যেগুলো পক্ষাঘাত গ্রস্ত রোগীদের লাগবে তা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল নার্ভ ইস্টিমুলেশন বা টেনস (TENS), আই আর আর বা অবলোহিত রশ্মি বিকিরণ বা (IRR) । টেনস হাত বা পায়ের নার্ভ গুলোকে সচেতন করবে, ব্রেণ কে বার বার মনে করিয়ে দিবে হাত নাড়াও বা পা নাড়াও। মুভমেন্ট মেইন্টেইন করবে, ব্যথা থাকলে কমাবে, সেন্সসরী ফাংশন বাড়াবে, ইত্যাদি। অন্য দিকে IRR রক্ত চলাচল বাড়াবে, সেনসরী এক্টিভিটি ঠিক রাখবে, মাংস স্টিভনেস থেকে রক্ষা করবে, জোড়া এর মুভমেন্ট ঠিক রাখবে ইত্যাদি। ব্যথা থাকলে হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে হাইড্রোথেরাপীর কিছু কাজ সারা যেতে পারে। তবে হাইড্রোথেরাপী পুল যদি থাকে সেটা খুবই ভালো হবে ব্যথা এবং ব্যালান্সিং এর জন্য।পানির বুয়েন্সি পাওয়ার শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো কাজ দেয়।

আকুপ্রেশার ব্যবহার করতে পারবে ফিজিওথেরাপিস্ট তবে এটি ইলেক্ট্রথেরাপী নয়। শরীরের আকু পয়েন্ট ধরে ধরে বা যে পয়েন্ট গুলো প্যারালাইসিস ভালো হওয়ার জন্য চার্টে আছে সেখানে আকুপ্রশার দেয়া যেতে পারে।এটি চাইনিজ ন্যাচারাল চিকিৎসা খুবি ভালো কাজ করে। অনেকে আকুপাংচারো করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিস্ট এর সে সম্পর্কিত যথেষ্ট ট্রেনিং থাকতে হবে।

কাউন্সেলিং

শারীরীক সমস্যার পাশাপাশি রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে।দেখা যায় যে স্ট্রোক রোগী সেরে উঠতে অনেক সময় লেগে যায়।এই দীর্ঘ সময়ে রোগী মানসিক ভাবে একদম ভেংগে পড়ে, সে এক পর্যায়ে মনেই করে নেয় যে সে আর ভালো হবে না।ঠিক এই ধারণাটাই একজন রোগীর ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের  জন্য অনেক খারাপ।এজন্য ফিজিওথেরাপীর পাশাপাশি প্যারালাইজড রোগীকে কাউন্সেলিং করতে হবে। যেমন তার সাথে মাঝে মাঝে গল্প করতে হবে, এমন এমন কথা গল্পের ছলে বলতে হবে যাতে তার চিকিৎসার প্রতি আকর্ষন বেড়ে যায়। দীর্ঘ যাত্রায় সে যাতে হাল না ছাড়ে এজন্য তাকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে নিয়ে যেতে হবে অবশ্যই সেখানে যথেষ্ট সহায়তে করার  এসিস্ট্যান্ট  থাকবে। তার পরিবারের লোকদের এই বিষয় গুলো ভালোভাবে বুঝাতে হবে। যার সাথে কথা বললে ভালো লাগে শুধু তার সাথেই কথোপকথোন করলে ভালো। পরিবারের সমস্যাগুলো তার সাথে শেয়ার না করাই ভালো।আর্থিক বিষয়াদি রোগীকে না জানানোই শ্রেয়। ফিজিওথেরাপিস্ট থেরাপীর পাশাপাশি কৌশলে রোগীর প্রশংসা করবে এতে দেখবেন চিকিৎসা তার কাছে প্রাণবন্ত হয়ে উঠতেছে।আপনার কাছে ভালো হয়ে উঠা যেসব রোগী আছে তাদের গল্প রোগীর কাছে করুন এতে তার কনফিডেন্স লেভেল বেড়ে যাবে।এভাবেই একজন স্ট্রোক রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের নার্সিং করা যায়।

physiotherapy
therapy

স্প্লিন্টিং

স্প্লিন্টেজ বা স্প্লিন্টিং এক ধরনের সাপোর্ট কম্পোনেন্ট যা রোগীকে হাটতে সহায়তে করে, স্টিভনেস থাকলে তা প্রিভেনশন করে ,ব্যালান্সিং ঠিক রাখে ইত্যাদি।যেমন যদি রোগির হাটু সাপোর্ট না করে এবং রোগী হাটতে গিয়ে পা এ ভর রাখতে পারছে না সেক্ষেত্রে নী ইমোবিলাইজার ব্যবহার করা যায়। হটার জন্য ওয়াকার এক ধরনের সাপোর্ট। এল্বো স্টিভনেস প্রিভেনশনের জন্য এলবো ইমোবিলাইজারও আছে।হাতের কব্জী তে শক্ত ভাব থাকলে রিস্ট সাপোর্ট ব্যবহার করা যায়।এই ধরনের সাপোর্ট ব্যবহার করারো কিছু নিয়ম আছে সে নিয়মগুলো ভালোভাবে মেনেই তা পরিধান করতে হবে।

সোস্যাল কমিউনিকেশনঃ

 স্ট্রোকের রোগি যখন ভালোর দিকে যাবে তখন তার বিভিন্ন থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ এর প্যাটার্ন পরিবর্তন করতে হবে।তাকে সেক্ষত্রে বাইরের পরিবেশে মিশাতে হবে।তার সোসাইটিএর অন্যান্য লোকজনের সাথে কমিউনিকেশন মেইন্টেইন করা শিখাতে হবে।প্রয়োজনে কিছু থেরাপিউটিক কাজ বাইরে কোন মাঠে নিয়ে করতে পারেন। গেইট ট্রেনিং বা হাটার কাজ মাঠেই করবেন। সাইকেলিং করতে পারে যদি সম্ভব হয়।মসজিদ , বা অন্য কোণ প্রার্থনাস্থলে যাওয়া শুর করতে হবে। পাড়ার চা’র দোকানে তার সোসাইটির সবার সাথে দেখা শোন করতে পারে।এভাবে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসনের কাজ ধীরে ধীরে শেষ হবে,তবে ফিজিওথেরাপীস্টের সাথে যোগাযোগ একেবারে টোটালি বন্ধ করা যাবে না , মাঝে মাঝে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে কিছু পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে।

1 thought on “Stroke/প্যারালাইসিস”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top