ফিজিওথেরাপি
১২/১২/২০২৪
─
ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান
বিপিটি, এমডিএমার
কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি)
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র,গাইবান্ধা
ফিজিওথেরাপি’র ইতিহাস
___
পর্যায়ক্রমে ইতিহাস দেখা যাকঃ
- যীশু খ্রিস্টের জন্মের ৪৬০ বছর পূর্বে হিপোক্রেটস ও গ্যালেন দার্শনিকদের মনে করা হয় প্রথম ফিজিওথেরপি’র ব্যবহারকারী বা প্রাকটিশনার হিসেবে।
- এনারাই প্রথমদিকে ম্যানুয়েল থেরাপি , ম্যাসাজ এবং হাইড্রথেরপির মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি’র ব্যবহার করেন।
- আঠারো শতকের দিকে অর্থোপেডিক্স বিজ্ঞানের দৌড়াত্বের সাথে সাথে জিমন্যাস্টিকন নামক একটি স্ট্যাটিক সাইকেলের ব্যবহার শুরু করা হয় গাউট রোগের ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা নিরাময়ের জন্য।
- জিমন্যস্টিকন হচ্ছে একটি স্ট্যাটিক বাইসাইকেলের মত যা ১৭৯৬ সালে ফ্রান্সিস লোনডেলস আবিষ্কার করেন।
- পার্কে হেনরিক লিং প্রফেশনালি ফিজিওথেরাপির ব্যবহার করেন এবং এই পার্ক হেনরিক লিংকে সুইডিশ জিমন্যস্টিকস এব্র ফাদার বলা হয়।
- ১৮১৩ সালে পার্ক হেনরিক লিং রয়াল সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অব জিমন্যস্টিকস প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে বিভিন্ন ব্যয়াম এবং ম্যানুয়াল থেরাপির প্রাক্টিস করেন।
- ১৮৮৭ সালে ‘সুইডেন ন্যাশনাল বোর্ড অব হেলথ কেয়ার’ ফিজিওথেরাপিস্টদের রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ তা অনুসরণ করতে থাকে।
- ১৮৯৪ সালে গ্রেট ব্রিটেন এর চার জন নার্স বা সিস্টার মিলে একত্রে ‘চার্টার্ড সোসাইটি অব ফিজিওথেরাপি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের দিকে নিউজিল্যান্ডের অস্টাগো বিশ্ববিদ্যালয় ‘স্কুল অব ফিজিওথেরাপি’ বিভাগ শুরু করে।
- ১৯১৪ সালে আমেরিকার রিড কলেজ থেকে ‘বিরকন্সট্রাকশন এইড’ নামে বিভিন্ন গ্রাজুয়েট ছাত্র ছাত্রী বের করা শুর হয়।
- ১৯১৬ সালে পোলিও মহামারীর সময় আমেরিকার অর্থোপেডিক সার্জনরা প্রতিবন্ধী বাচ্চা ও মহিলাদের শারীরিক শিক্ষা এবং পুনর্বাসন ব্যয়াম এর মাধ্যমে চিকিতসা করেন
- ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহত সেইনিকদের পুনর্বাসনে মহিলাদের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি’র ব্যবহার এর মাধ্যমে এই বিষয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়।
- আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে ওয়াল্টার রিড আর্মি হাসপাতালে স্কুল অব ফিজিওথেরাপি খোলা হয়।
- ১৯২১ সালে ‘দ্য পিটি রিভিউ’ নামে সর্বপ্রথম আমেরিকায় ফিজিওথেরাপি’র উপর গবেষণা পত্র বের হয়।
- ১৯২১ সালে মেরি ম্যাক মিলান আমেরিকান মহিলা ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন চালু করেন যা পরবর্তীতে ‘আমেরিকান ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন’ এপটা (APTA) নামে পরিচিতি পায়।
- ১৯৫০ সালের দিকে ফিজিক্যাল থেরাপি সরকারি/বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিক, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান, বাসায়, শিল্প কারখানায়, বৃদ্ধাশ্রমে, পুনর্বাসন কেন্দ্রে ব্যবহার হতে থাকে।
- ধীরে ধীরে ফিজিক্যাল থেরাপী’র উপর বিভিন্ন ছাত্র স্পেশাল ডিগ্রী নেয়া শুরু করে।
- ১৯৫১ সালে ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অব ফিজিক্যাল থেরাপী (WCPT) প্রতিষ্ঠা হয়।

ফিজিওথেরাপিঃ
ফিজিওথেরাপি হচ্ছে চিকিতসা বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ একজন ব্যক্তির বা রোগীর শারীরিক , মানসিক ব্যথা, আঘাত ,জড়তা এবং প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ গুলোর প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করার জন্য স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন মডালাইটিস এবং ম্যানুয়াল মুভমেন্ট এর মাধ্যমে চিকিতসার সুব্যবস্থা করেন।
ফিজিওথেরাপিকে অন্যভাবে ফিজিক্যাল থেরাপীও বলা হয়ে থাকে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞকে ফিজিওথেরাপিস্ট/ফিজিক্যাল থেরপিস্ট/মোটা দাগে রিহ্যাবিলিটেশন প্রাকটিশনার বলে।
ফিজিওথেরাপি বিষয়ে আমদের দেশে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ফিজিওথেরাপি) (০৩ বছর মেয়াদী),বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি/বিপিটি (০৫ বছর মেয়াদী), মাস্টার্স ইন ফিজিওথেরাপি (০২ বছর মেয়াদী) বিষয় সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়।
সরকারীভাবে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ফিজিওথেরাপি) পড়ানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানে।
সরকারীভাবে বি এস সি ইন ফিজিওথেরাপি পড়ানো হয় ন্যালশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি এন্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)/পংগু হাস্পাতালে
বেসরকারী অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ফিজিওথেরপি’র ডিপ্লোমা,বিএসসি এবং মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালিত করে।এদের মধ্যে সি আর পি,গণ বিশ্ববিদ্যালয়,স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়,পিপলস বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ,সাইক ইন্সটিটিউট অন্যতম
বিদেশে ডক্টর অব ফিজিওথেরাপি বিষয় পড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপী) এবং ফিজিওথেরপিস্ট বা ফিজিওথেরাপী স্পেশালিস্ট বৃন্দ সহ অন্যান্য রিহ্যাবিলিট্বশন পেশাজীবী দের জন্য বাংলাদেশে ২০১৮ সালে “বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল ২০১৮” শীর্ষক আইন পাস হয়। এই কাউন্সিলই এই পেশাজীবিদের জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
