ক্লাব ফুট বা মুগুর পা
ক্লাব ফুট কিঃ
ক্লাব ফুট একটি জন্মগত সমস্যা যেখানে বাচ্চার পায়ের পাতা ভিতরের এবং নিচের দিকে বাকা থাকে। এটি একটি জন্মগত সমস্যা। বাচ্চার দুই পা অথবা এক পা হতে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই পাই সাধারনত হয়ে থাকে।এটির সঠিক চিকিতসা সময় মত না করালে ভালো হবে না অবশ্যই জন্মের পর পর ই এক মাসের মধ্যে শুরু করতে হবে।
কারণঃ
- জেনেটিক বা জিন গত
- পরিবেশগত দূষণ
- মায়ের গর্ভে অবস্থানগত সমস্যা
- পায়ের পাতার হাড়ের গঠনগত সমস্যা
ডায়াগনোসিসঃ
কিভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চার পা এমন হচ্ছে, সাধারনত বাচ্চার জন্মানোর পরই খালি চোখে তা বুঝা যায়। আপনার নিক্টস্থ ডাক্তার বা ফিজিওথেরাপী বিশেষষ্ণ এর নিকট পরামর্শ নিলেই আপনি ডায়াগ্নোসিস করতে পারবেন। এখানে সাধারনত নিম্নের বিষয় গুলো দেখা যায়।
বাচ্চার পায়ের পাতার মাঝখান্টি ভিতরের দিকে বশি গর্ত থাকে। অন্য ভাবে একে ক্যাভাস (cavus) বলে বা হাই আর্চ কন্ডিশন।
এরপর এখানে দ্বিতীয়ত পায়ের পাতার সামনের দিকের অংশ ভিতরের দিকে বাকানো থাকে , একে এডাক্টাস বা (Adductus) বলে।

তৃতী য়ত এখানে পায়ের পাতা ভিতরের দিকে মোচড়ানো থাকবে, মেডিকেলের ভাষায় একে ভ্যারাস (varus) বলে।

চথুর্থত পায়ের পাতা নিচের দিকে থাকবে, বাচ্চা হাটলে পাতা দিয়ে হাটবে। তবে বাচ্চা ছোট থাকলে তো আর হাটবে না, তাই এটি খুবে বেশি বোঝা যাবে না। আমরা একে ইকুইনাস (Equinus) বলি। পিছনের টেন্ডন বা সাধারন মানুষের ভাষায় রগ টান থাকবে।

চিকিতসাঃ সাধারনত এখানে মেনুপুলেশন ফিজিওথেরাপী প্রয়োগ করা হয়। মেনুপুলেশনের কয়েকটি পরিচিত পদ্ধতি বা মেথড আছে
- পনসেটি মেথড
- ফ্রেন্স মেথড
- কাইট মেথড
পনসেটি মেথড সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ হচ্ছে এখন, পরের মেথড গুলো এখন আর ব্যাবহার হয় না।
পনসেটি মেথডঃ এটি একটি মেনিপুলেটিভ প্রক্রিয়া যেখানে বাচ্চার পা কে চার থেকে পাচবার প্লাস্টার করার মাধ্যমে পায়ের পাতার বাকা অংশকে কারেকশন বা ঠিক করা হয়, বাচ্চার জন্মের পর ২১ দিন পরেই শুরু করতে পারলে সবচেয়ে ভাল। বাচ্চার বয়স বেশি হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে শেষবার প্লাস্টার করার আগে টেনোট্মি নানে একটি ছোট অপারেশন করা হয়।এই অপারেশন দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জন এর মাধ্যমে করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে টেনোট্মির প্রয়োজন হয় না।টেনোট্মির পর ডেনিশ ব্রাঊন স্প্লিন্ট পড়তে হয় বাচ্চা হাটার বয়স পর্যন্ত।এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ফিজিওথেরাপিস্ট বা অন্য ফিজিশিয়ান এর বিশেষ পদ্ধতির প্রয়োজন আছে যা সাধারন প্লাস্টার এর মত নয়।
(পনসেটি মেথড সর্বপ্রথম পরিচিতি করেন স্প্যানিশ ডা ইগনাসিও ভি পনসেটি, যিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন ছিলেন। ১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব লয়া হস্পিটাল এন্ড ক্লিনিকে ইনি এই প্রক্রিয়ার বর্ণ্না দেন এবং ১৯৯০ সালের দিকে ফিজিওথেরাপিস্ট স্টিভ উইল্ডন যুক্তরাজ্যে এর ব্যাপক পরিচিতি ঘটান)
অন্যান্য পদ্ধতি গুলো আর আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।,
টেনোট্মির পর যে জুতা ব্যবহার করা হয় সেটি হলো ডেনিশ ব্রাউন স্প্লিন্ট যা সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন স্যার ডেনিশ ব্রাউন যিনি একজন অস্ট্রেলিয়ান বংশদ্ভুত পেডিয়াট্রিক সার্জন এবং তাকে মনে করা হয় ফাদার অব পেডিয়াট্রিক সার্জারি।
ক্লাব ফুট এর বাচ্চাদের বয়সের সাথে সাথে জুতার সাইজেরও পরিবর্তন করতে হবে, এজন্য বাচ্চার কয়েক সেট জুতা লাগবে।
জুতা পড়ার মাঝে মাঝে বিশেষ ফিজিওথেরাপী’র প্রয়োজন আছে।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই চিকিতসা পদ্ধতি টি দীর্ঘমেয়াদি এজন্য বাচ্চার পিতা মাতার মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে। বেশ ভালোই অর্থ খরচ হয়,তবে গরীব রোগিদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা আছে।

সম্পাদনায়ঃ ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
বিপিটি (পংগু হাস্পাতাল/নিটোর) ডি ইউ; এম ডি এম আর (বি ও ইউ)
কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপী)
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র,গাইবান্ধা
01723 702408